সহজ ভাষায় ট্যাক্স রিটার্নঃ ২০২৬-২০২৭
- Kazi Tanjedul Ershad
- May 12, 2022
- 2 min read
Updated: Jul 31
আয়কর দেওয়া বা রিটার্ন জমা দেওয়া বিষয়টি অনেকের কাছেই এক ধরনের জটিলতা মনে হতে পারে। কিন্তু কিছু সহজ সাধারণ বিষয় এবং বর্তমান করবর্ষের নিয়মগুলো জানা থাকলে আপনি খুব সহজেই নিজের কর হিসাব করতে পারবেন। নিচে এই করবর্ষের সহজ কিছু বিষয় আলোচনা করা হলো:
১. ই-টিআইএন (e-TIN) সার্টিফিকেট
আয়কর দেওয়া বা রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রথম ধাপ হলো আপনার একটি ১২ ডিজিটের ই-টিআইএন (e-TIN) থাকতে হবে। এটি আপনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ওয়েবসাইট থেকে একদম বিনামূল্যে ৫ মিনিটেই তৈরি করতে পারবেন। যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন বা নির্দিষ্ট কিছু সেবার ক্ষেত্রে এখন ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক।
২. নতুন করসীমা ও করের হার (২০২৬-২০২৭)
সাধারণ পুরুষ করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, সারা বছরে আপনার মোট আয় ৪,০০,০০০ টাকার নিচে হলে আপনাকে কোনো আয়কর দিতে হবে না। তবে আয় ৪,০০,০০০ টাকা অতিক্রম করলে নির্দিষ্ট ধাপ অনুযায়ী কর প্রযোজ্য হবে:

বিশেষ করমুক্ত সীমা:
মহিলা করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতা: ৪,৫০,০০০ টাকা
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা: ৫,২৫,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা করদাতা: ৫,৫০,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা/মাতা/আইনানুগ অভিভাবক: যেকোনো প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রতি অভিভাবক অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা করমুক্ত সুবিধার সুবিধা পাবেন (পিতা ও মাতা উভয়েই করদাতা হলে যেকোনো একজন এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন)।
নূন্যতম কর (Minimum Tax): আপনার আয় যদি করমুক্ত সীমা পার হয়, তবে এলাকাভেদে আগের আলাদা নিয়ম বাদ দিয়ে এখন দেশজুড়ে ফ্লাট ৫,০০০ টাকা নূন্যতম কর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন করদাতাদের জন্য এটি ১,০০০ টাকা।
৩. আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সময়সীমা
সাধারণত কর বছরের আগের বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১২ মাস সময়কে আপনার মোট আয় ধরা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ প্রযোজ্য হতে পারে।
৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
রিটার্ন প্রস্তুত করার সময় সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:
চাকরিজীবী হলে: বেতন সার্টিফিকেট (Salary Certificate)
ব্যবসায়ী হলে: ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং লাভ-ক্ষতির হিসাব বিবরণী
বাড়িওয়ালা হলে: ভাড়া আদায়ের প্রমাণ, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ইউটিলিটি বিলের রসিদ
ব্যাংক আমানত থাকলে: ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সুদের উপর কর কর্তনের বিবরণী
৫. বিনিয়োগ রেয়াত (Tax Rebate)
আপনার মোট করদায়ের ওপর ছাড় পেতে চাইলে সরকার অনুমোদিত খাতে ডিপিএস, জীবন বীমা, সঞ্চয়পত্র, কিংবা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন। নির্ধারিত খাতে সঠিক বিনিয়োগের প্রমাণ জমা দিয়ে আপনি আপনার মোট দেয় কর থেকে আইনি উপায়ে ছাড় পেতে পারেন।



Comments